বাংলাদেশের আকাশে ভারতের মিসাইল


 (১)
ছবি দুটো একটা অপরটার সাথে সম্পৃক্ত। খলিলের চীন সফর, সালাউদ্দিনের পাকিস্তানের সাথে চুক্তি করা আর ভারতের মিসাইল পরীক্ষা দেখে বুঝে নিতে হবে ভেতরে ভেতরে বড়ো কিছু ঘটছে।

সাত-আট মাস আগেও বাংলাদেশের আকাশে ভারতের মিসাইল দেখা গিয়েছিল। ওটা ছিল অগ্নি-৫ নামে একটি নিউক্লিয়ার মিসাইল। তবে আজকে মিসাইল পরীক্ষা একটু ভিন্ন। ভারত বাংলাদেশকে আজকে প্রাথমিক হুমকি দিলো।

(২)
ভারত 'অখণ্ড ভারত' প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠার হিন্দুত্ববাদী নেশায় ভারত উন্মত্ত হয়ে আছে। তাই চীন ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক গভীর করা ছাড়া বিএনপির হাতে দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। বিএনপি যত চীন-পাক ব্লকের দিকে যাবে, ভারত তত আগ্রাসী আচরণ করবে।

কিন্তু এতো কিছু বুঝেও প্রথম আলো-ডেইলি স্টার আর রঠার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপি। বাম-শাহবাগী ও হিন্দুদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। এটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। বিএনপি নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছে।

(৩)
এই অখণ্ড ভারত প্রকল্পের বিষয়টা হাসিনাও বুঝত। তাই চীনের সাথে সম্পর্ক করতে চেয়েও পারেনি। হাসিনা চীনমূখী হয়েছিল জন্য ভারত হাসিনাকে ছুঁড়ে ফেলেছে। ৫ তারিখে সাহায্য করেনি। কিন্তু লীগররা মনে করে ভারত লীগের রক্ষাকর্তা। হ্যাঁ রক্ষা করবে; যেদিন হাসিনা বাংলাদেশের মূখ্যমন্ত্রী হতে রাজি হবে।

হাসিনা খুনি। নিকৃষ্ট খুনি। রক্তপিপাসু। ভারতকে সব দেবে। তবে ক্ষমতার চেয়ারটা তার কাছে রাখবে। সাইকোপ্যাথরা নিজের ব্যক্তি-স্বাধীনতা ঠিক রাখে যেন যা ইচ্ছে তা করা যায়। হাসিনাও সাইকোপ্যাথ ছিল।

(৪)
সেদিন সেনাপ্রধান আফসোস করে বলেছিল বাংলাদেশের শক্তিশালী এয়ার ফোর্স নেই। গত বছর রাওয়ার একটা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেছিল, "নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম। নাইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের।"

সামরিক বাহিনী গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে গণতান্ত্রিক এসব রাজনীতিবিদদের সুরক্ষা দেয়। এসব রাজনীতিবিদরা জনগণের ট্যাক্সের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে। অথচ ৭১ সালের পর কয়েক যুগ পাড় হয়ে গেল, সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে রাজনীতিবিদরা বড়ো অংকের সামরিক বাজেট দিল না।

(৫)
সম্প্রতি তিস্তা প্রকল্প, উত্তরবঙ্গে বিমান ঘাঁটি বানানো, পাকিস্তানের সাথে সামরিক চুক্তি, চীনের সাথে সামরিক চুক্তি ইত্যাদি কারণে ভারতের ঘুম হারাম।

ভারত বাংলাদেশকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসাম রাজ্যে তিন দিক ঘিরে নতুন তিনটি সামরিক ঘাঁটি করেছে। পশ্চিমবঙ্গে পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় আনা হয়েছে বিজেপিকে। এগুলো এমনি এমনি করেনি। 

(৬)
বহুদিন ধরে বলে আসছিলাম। অনেকেই তখন তর্ক করে বলত, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করবে না। আজকে বাংলাদেশের আকাশে সেই মহাসংকটের পূর্বাভাস দেখা গেল। বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন।

জামাত-শিবিরের মাথামোটাগুলোই তর্ক করত বেশি। কারণ, জাশি মার্কিন ব্লকের। বাংলাদেশে আমেরিকাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় জাশি। আমি এদেরকে বলতাম, আমেরিকা-ভারত একই ব্লকের। বাংলাদেশে আমেরিকাকে প্রতিষ্ঠিত করাটা ভারতকে প্রতিষ্ঠা করার নামান্তর।

(৭)
এই মহাবিপদ নিয়ে গণমাধ্যম কোনো নিউজ করছে না। জনগণকে ওরা হিন্দুত্ববাদী রঠা দিয়ে আজকে ব্যস্ত রেখেছিল। গত কয়েকদিন ব্যস্ত রেখেছিল কে কয়টা বিয়ে করল। এসব হচ্ছে জনগণকে সতর্ক করার বদলে অহেতুক বিষয় দিয়ে ব্যস্ত রাখা। জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতিকে আলোর পথ না দেখিয়ে অন্ধ বানিয়ে রাখছে গণমাধ্যমগুলো। এগুলো ভারতীয় পরিকল্পনারই অংশ। 

বাম-শাহবাগী, হিন্দু তথা 'মোদি সিন্ডিকেট' চুপ। ওরা মুখ টিপে টিপে হাসছে। কারণ, ওদের আজকে আনন্দের দিন। ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করলে মোদি সিন্ডিকেট প্রতিরোধ করবে তো দূরের কথা, কোনো প্রতিবাদও করবে না; বরং আক্রমণের পক্ষে বক্তব্য দেবে। এমনকি ভারতের পক্ষে কাজ করবে। এরা ভারতীয় রাজাকার।

(৮)
কেবল মুসলমানরাই এই দেশের রক্ষাকবচ। মুসলমানদের এই শক্তিকে নিজেদের ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিতে পারলে মোদির 'অখণ্ড ভারত' প্রতিষ্ঠার কাজটা সহজ হয়ে যায়। এজন্য বিগত কয়েকদিন কৌশলে মোদির পালিত এই দেশের গণমাধ্যমগুলো একের পর এক ইসলামবিদ্বেষী খবর প্রচার করেছে। এই অপপ্রচারের শুরুটা হয়েছিল ৭১ সালের পর থেকেই।

(৯)
সামরিক বাহিনী তথা ডিপ স্টেট সব বুঝে-শুনে ইসলামপন্থীদের কোণঠাসা করে রাখার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছে। জুলকার নাইনের মতো একটা শাহবাগী ধ্যানধারণার লোককে তাদের মুখপাত্র বানিয়েছে। ইসলামপন্থীদের মাইনাস করে বা দূরে রেখে ভারতের সাথে লড়াইটা একা করতে পারবে না তারা।

সারা পৃথিবীর সামরিক বাহিনী নিজেদের সংখ্যাগরীষ্ঠ মতাদর্শ ও ডানপন্থার পাশে থাকছে। আর বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী সেক্যুলার হতে চাচ্ছে। কাঁধে সিন্দাবাদের ভূত না চাপলে কেউ এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয় না।

(১০)
সাধারণ জনগণের কথা আর কী বলব! এরা মোদি সিন্ডিকেটের কথায় নাচে। এদের আবেগ বেশি, বিবেক কম। তাই মাশুল দেবে চড়া। এরপর শিখবে। কারা প্রকৃত বন্ধু আর কারা বন্ধুর বেশে পিঠ পিছে ছুরি চালায় সেটা উপলব্ধি করবে। কিন্তু ততদিনে মুশরিকরা যা ক্ষতি করার করে ফেলবে।

আমি আজ পর্যন্ত সামনাসামনি বাংলাদেশের যতজন সাধারণ মুসলিমকে হিন্দুদের ব্যাপারে সতর্ক করেছি, সবাই বলেছে, "আমার মনে হয় না বাংলাদেশের হিন্দুরা এমন।" মাইর এরা না খেলে আর কে খাবে! 

 

লিখেছেন : কারিম শাওন 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন