ভূ-রাজনীতি ও জাতিসংঘের দ্বিচারিতা: আফগানিস্তান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম


 সম্প্রতি আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (GDI) গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার অভিযোগে জাতিসংঘের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জাতিসংঘ বারবার তাদের কর্মীদের মুক্তির দাবি জানালেও ইমারাত কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। আর এর পরপরই দেখা যায় জাতিসংঘের সেই পুরোনো কৌশলের প্রয়োগ; মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি মনগড়া বয়ান তৈরি করা।

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো (UNESCO) দ্রুতই এক বিবৃতিতে দাবি করে, আফগান সরকার নারীদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। নারীদের শিক্ষার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নারীরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন।

পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তাদের এদেশীয় দালাল মিডিয়াগুলি এই বিবৃতিকে একপাক্ষিক ও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে শুরু করে। অথচ ইমারাত কর্তৃপক্ষ যদি তাদের কর্মীদের ছেড়ে দিত, তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এমন কোনো জোরালো বিবৃতি আসত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এটিকে দ্বিচারিতা (Hypocrisy) ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!
.

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ঘিরে পশ্চিমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের কথা কারো অজানা নয়। কয়েক দশক ধরে সেখানে 'আদিবাসী-অধিবাসী' বিতর্ক উস্কে দিয়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নানা আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে উক্ত অঞ্চলে জাতিসংঘের অবাধ প্রবেশাধিকারকে অনেকটা আইনগতভাবে বৈধ করে রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সেখানকার বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে পশ্চিমা সংস্থাগুলোর সখ্য স্পষ্ট। এসব গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের পশ্চিমা দেশগুলো সফর করা এবং উচ্চপদস্থ বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক প্রমাণ করে, এই অঞ্চলকে নিয়ে তাদের উদ্দেশ্য মোটেও সাধারণ নয়।

কেননা ইতিপূর্বেও আমরা দেখেছি, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF)-এর প্রধান নাথান বম ২০২৩-২৪ সালের দিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক ঘাঁটির ‘এয়ার বেজ’ ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে। কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিদেশি রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর সামরিক ঘাটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া কোনো সাধারণ বিষয় হতে পারে না।
.
সম্প্রতি পশ্চিমা শক্তিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুটিকে নতুন করে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাদের সে চেষ্টা ধাক্কা খেয়েছে। সরকারের  দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে তথাকথিত 'আদিবাসী' বয়ান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমা মহল এবার ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে আবারও তাদের পুরোনো বয়ান তৈরি শুরু করেছে।যেমন: "বাংলাদেশে All-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চলছে" কিংবা "Jঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে"।

এগুলো তাদের ভাণ্ডারে থাকা অত্যন্ত পুরোনো এবং পরীক্ষিত কৌশল। অতীতেও এই ধরনের বয়ান তৈরি করে বিশ্বের অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রকে দুর্বল ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।
.
কুফফার মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এসব  মনগড়া বয়ান ও  চক্রান্তের সামনে মুসলিম উম্মাহকে এখন সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। পশ্চিমা কুফফারদেরদের এই দ্বিমুখী নীতি ও চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে ঘাবড়ে যাওয়া বা বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।
পশ্চিমাদের তৈরি এই ভুয়া বয়ানের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

তাদের প্রতিটি মিথ্যা বয়ান ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বুদ্ধিভিত্তিক, কূটনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জাতিসংঘ বা যেকোনো পশ্চিমা সংস্থার এই ধরনের প্রপাগাণ্ডা ও আগ্রাসী তৎপরতার মুখে চুপ না থেকে, উম্মাহর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের সজাগ থাকা এবং সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তাই এই লেখাটি উম্মাহর কাছে পৌছে দেয়া আপনার দায়িত্ব।

লিখেছেনঃ আহমাদ ফাইয়াজ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন