মেন্সট্রুয়াল কাপ অত্যন্ত ক্ষতিকর যা অশ্লীলতা এবং যিনার দিকে নিয়ে যাবে

 

 

অনেকদিন যাবত এই ফালতু পেইজের এসব পোস্ট সামনে আসতেছে। পরামর্শ দিচ্ছে নারীরা যেন পিরিয়ডের সময় “মেন্সট্রুয়াল কাপ” ব্যবহার করে। এতো বড় একটা জিনিস নাকি নারীরা ব্যবহার করবে জরায়ু পথে! 


কিছু ব্যক্তিকে দেখলাম বলতেছে,
আগে স্বামীকে বলতো সাইকেল চালিয়েছি, এখন বলবে “মেন্সট্রুয়াল কাপ” ব্যবহার করেছি।
কথাটা কিন্তু মোটেও হাস্যকর নয়। বরং শতভাগ সত্য কথা। 
এই পেইজ আবার পোস্ট দেয়, বিয়ের আগে কতো মেয়ে তো ভার্জিনিটি  হারায়। শুধু যে “মেন্সট্রুয়াল কাপ” বিক্রি/ব্যবহারের কথা বলছে তা নয়। ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন সূক্ষ্মভাবে হারাম প্রেম-পিরিতির দিকেও ডাকতেছে।
প্রোফাইল পিকচারটা দেখেন হিজাব পরিহিত নারীর অবয়ব ব্যবহার করেছে। আবার এরাই দেখাচ্ছে ছবিসহ যে কতটুকু ভিতরে প্রবেশ করাতে হবে। নির্লজ্জ আর অশ্লীল নারী সমাজ গড়তে এরা উঠেপড়ে লেগেছে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে। মানে এদের ষড়যন্ত্রের নীল নকশা কত দূর পর্যন্ত দেখলেন তো?

এই “মেন্সট্রুয়াল কাপ” নারীদের কত বড় ঝুঁকি আর পাপের দরজা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে নারীরা বুঝতেও পারছে না। অনেক নারীরা বলতে পারেন এটা আরামদায়ক ব্যবহারে সমস্যা কী?
দুঃখিত যে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইসলামী ফতওয়া সাইট ঘুরে দেখেছি। সেখানে হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, নারীরা চাইলে তুলা ব্যবহার করতে পারে, যা নরম। কিন্তু হালকা নরমের মধ্যে শক্ত (মেন্সট্রুয়াল কাপ) কোনোকিছু ব্যবহারের ইঙ্গিত হাদিসে নেই।

তুলা আর “মেন্সট্রুয়াল কাপ” এক জিনিস না। তুলা অনেক নরম। তুলা যেকোনো জায়গায়, যেকোনো চাপে নির্দিষ্ট আকৃতিতে যেতে সক্ষম। অপরদিকে “মেন্সট্রুয়াল কাপ” সিলিকনের হওয়ায় এটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত সংকুচিত হবে এরপর আর হবে না। 
আর এতো বড় ফালতু জিনিসটা ব্যবহারের নারী তার ভার্জিনিটি (সতীত্ব যা স্বামীর হক) হারাবে এটা সুনিশ্চিত।

এছাড়াও নারী যখন “মেন্সট্রুয়াল কাপ” পরে চলাফেরা করবে, শক্ত কিছু আছে এমনটা অনুভব হবে। এটার ঘর্ষণের ফলে অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং পাপের দিকে নিয়ে যাবে। এবং ফালতু “মেন্সট্রুয়াল কাপ” ইনসার্ট করতে (ভিতরে ঢুকাতে) এমন কিছু ফালতু জিনিস ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। যা রাসূল (ﷺ)-এর এক হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, নারীকে যিনার মতো পাপের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে।

রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা বানী আদামের জন্য যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের  যিনা  হলো দেখা, জিহ্বার  যিনা  হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে।
 (মুসলিম ৪৬/৫, হাঃ ২৬৫৭, আহমাদ ৮২২২, ই.ফা- ৫৬৯৬)

পুরুষ বলেন বা নারী। যৌনাঙ্গ এমন একটা প্রান্তর যেখানে হালকা স্পর্শতেও অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। এবং রাসূল (ﷺ)- এর বলা শেষ লাইনটির মতো পাপ কাজে জড়িয়ে যেতেও বেশি সময় লাগবে না। ইবলিশ তো সবসময় লুলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রত্যেক আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করে জাহান্নামে নিয়ে যেতে। এজন্য প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সবসময় চেষ্টা করা সবধরনের পাপ থেকে বেঁচে থাকা।

তাই মা-বোনদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল এই সব “মেন্সট্রুয়াল কাপ” ব্যবহার করে পাপের পথ প্রশস্ত করবেন না, স্বামীর হক নষ্ট করবেন না। এসব ব্যবহারে জরায়ু পথে বা জরায়ু মুখে সংক্রমণ বা ইনফেকশনের মতো বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হবেন। পিরিয়ডের সময় জরায়ু পথে নয় বরং বাইরে যা ব্যবহার করা যায় সেটা ব্যবহার করুন, নিরাপদ।

সেজন্য মা-বোনদের উচিত “সুতি কাপড়ের প্যাড” ব্যবহার করা। স্যানেটারি ন্যাপকিন প্যাড ব্যবহার করতে নিষেধ করছি এজন্য যে সেটাতে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার হয়ে থাকে যা ধীর গতির স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে। 

তাই “সুতি কাপড়ের প্যাড” ব্যবহার করুন, নিরাপদ থাকুন। যদি দাদী/নানী বেঁচে থাকে তাদের কাছ থেকে জেনে নিবেন। কারণ আপনি যে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন দাদী/নানীরা এসব ব্যবহার করা ছাড়াই শুধুমাত্র সুতি কাপড়ের ব্যবহারেই তারা আপনার চেয়ে সুস্থ ও নিরাপদ ছিল। সেজন্য কেমিক্যাল এবং ভেজাল মুক্ত থেকে প্রাকৃতিক পথে এগিয়ে যান নিরাপদ থাকতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।

আর “মেন্সট্রুয়াল কাপ” নামক এইসব পশ্চিমাদের বানানো আরামদায়ক ফাঁদে পরে নিজের ভবিষ্যৎ বা স্বাস্থ্য নষ্ট না করার অনুরোধ রইল মা-বোনদের প্রতি।

 

লিখেছেন : নাসিম আহমাদ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন