যখন টিকা (ভ্যাকসিন) নিতে নিষেধ করি তখন একদল এসে বলে আমরা নাকি বোকা, অজ্ঞ, মুর্খ। কিন্তু বাস্তবতা দেখেন যারা করোনার টিকা নিয়েছেন তারা ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছেন। এতো বছর পর সত্য বের হয়ে আসতেছে ধীরে ধীরে।
রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ যে সত্যটা প্রকাশ করেছে তা খুবই স্পর্শকাতর একটা তথ্য (ভিডিও)।
যার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়াতে করোনা টিকা দেওয়ার ১ বছর পর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যানের গবেষণাটা।
উল্লেখ্য গবেষণায় বের হয়ে এসেছে,
(১) করোনার সিডিএনএ (cDNA) টিকাগুলো থাইরয়েড, গ্যাস্ট্রিক, কোলোরেক্টাল (মলদ্বার), ফুসফুস এবং প্রোস্টেট (মূত্রথলির) ক্যান্সারে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েছে।[১]
(২) বুস্টার ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, পাকস্থলী এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার।
(৩) mRNA ভ্যাকসিন থাইরয়েড, কোলোরেক্টাল (মলদ্বার), ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েছে।
(৪) করোনা টিকাপ্রাপ্ত পুরুষরা পাকস্থলী এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং টিকাপ্রাপ্ত নারীরা থাইরয়েড এবং কোলোরেক্টাল(মলদ্বার) ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সারের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
করোনা চলাকালীন সময়ে কয়েক রকমের করোনার টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেকটি টিকাতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপকরণ ছিল যা স্পষ্ট করে এমন গবেষণা।
আপনি যদি একটু চারপাশে খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন ক্যান্সারের রোগী অনেক বেড়ে গেছে। ২-৩ মাসের ব্যবধানে আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্ৰামের ২ জন ক্যান্সারে মারা গেছে। আগে কিন্তু এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে নাই। অবশ্যই যারা যেকোনো ধরনের টিকা নিয়েছেন তারা ঝুঁকিতে রয়েছে। টিকা কতটা ক্ষতিকর, অস্বাস্থ্যকর জানলে আপনি তাৎক্ষণিক মুখ ফিরিয়ে নিবেন। আরো ১০ জনকে টিকা থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করবেন। [২]
সম্ভব খুব শীঘ্রই (২০২৭ সালে) ল্যাবে তৈরি ভাইরাসের মহামারী ঘটানো হতে পারে। ভিটামিন-ডি ক্যাপসুল, ডেঙ্গু বা প্লেগ বা নিউমোনিয়ার টিকা গণহারে সবাইকে দিতে বাধ্য করতে পারে। আশা করি এই আলোচনায় বুঝতে পারছেন বড় হতে ছোট সবাইকে কেন টিকা/ভিটামিন ক্যাপসুল সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে।
যাইহোক, শুধু করোনা টিকা না জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যে নারীরা পিল/ট্যাবলেট খান তারাও বন্ধ্যা, জরায়ু মুখ ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পিল খাওয়া বন্ধ করুন। এছাড়াও যেসব মেয়েরা জরায়ু মুখ ক্যান্সারের (HPV) টিকা নিয়েছেন তারাও ঝুঁকিতে আছেন। যদিও সাথে সাথে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকা HPV নেওয়ার পরপরই অসুস্থ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। [৩]
কিন্তু একটা মেয়েও বিষয়টা পাত্তা দেয় নাই। এমনকি অভিভাবকরাও নিষেধ করে নাই জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকা নিতে। উপেক্ষা করে টিকা নিয়ে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে।
যদি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চান সর্বপ্রথম টিকা নেওয়া বাদ দিতে হবে। শহর ছেড়ে প্রাকৃতিক গ্রামীন পরিবেশে বসবাস করতে হবে এবং সুস্থ থাকার প্রাকৃতিক পথ অবলম্বন করতে হবে। আপনার ইমিউন সিস্টেম (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) যত শক্তিশালী হবে ততই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন। সেজন্য আপনাকে ভেজালমুক্ত, কীটনাশক, সার মুক্ত খাবার খেতে হবে। কিছু পাথেয় নিম্নে উল্লেখ করছি নিয়মগুলো অনুসরণ করতে চেষ্টা করবেন, ইনশাআল্লাহ।
(১) রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যাবেন। কমপক্ষে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ফজরের সময়ে ওঠে নামাজ পড়বেন। অর্থাৎ মুসলিম হিসেবে সবসময় নামাজ ঠিক রাখবেন। এছাড়াও অন্যান্য ফরজ যা আছে তা। কেননা ইসলাম আপনাকে এমন এক জীবনবিধান দিয়েছে সেটা আধুনিকতা বা বিজ্ঞানও দিতে পারবে না।
(২) সকালবেলা সূর্য ওঠার আগে কমপক্ষে ২৫-৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। সম্ভব হলে দৌড়ানো বা ব্যায়াম করতে হবে।
(২) ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়া চেষ্টা করতে হবে। ভাত কমিয়ে রুটি খেতে হবে।
(৩) ৩ বেলা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সকালে বা দুপুরে বাইরের ছাইপাশ খাবার খায়। এসব বাদ দিয়ে ভাত বা রুটি নিয়ে যেতে হবে।
(৩) খেজুর, দুধ, ডালিম/আনার, পনির, মাখন, যায়তুনের তেল, ঘি, সিরকা, সবধরনের বাদাম, কিশমিশ, গম বা লাল আটার রুটি, দেশি মুরগী-হাঁস, ডাব/নারকেল, সম্ভব হলে সামুদ্রিক মাছ, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে এবং সার-কীটনাশক, ফরমালিন মুক্ত শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে।
(৪) আমিষের চাহিদা পূরণ করতে চাষের মাছ, ফার্মের মুরগী বাদ দিয়ে দেশী হাঁস-মুরগী খাবেন। এবং গরুর মাংস মাসে একবার হলেও খেতে চেষ্টা করবেন। ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করে খেতে হবে। যারা সুস্থ আছেন তেল বাদে দিয়ে পরিমাণ মতো চর্বি দিয়ে রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
(৫) ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার, ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত এবং প্রাকৃতিক পথ অনুসরণ করতে হবে।
নিচে উল্লেখ করা হলো, জরায়ু মুখের ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো। আশা করি নারীরা এই লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিবে।
জরায়ু মুখ ক্যান্সারের লক্ষণ,
জরায়ু মুখ ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম প্রধান ২টি কারণ হচ্ছে,
বংশগত কারণে এবং একাধিক পুরুষের সাথে নারী শারীরিক সম্পর্ক করলে জরায়ু মুখ ক্যান্সার হবে। এছাড়া অন্যান্য কারণগুলো তেমন একটা দায়ী নয়।
লক্ষণসমূহঃ
(১) যোনি বা জরায়ু পথে রক্তযুক্ত স্রাব বের হওয়া এবং দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া।
(২) সহবাসের পর রক্তপাত, গর্ভাবস্থায় রক্তপাত।
(৩) পিরিয়ড হওয়ার পর পিরিয়ড বন্ধ থাকার সময়ে রক্তপাত বা রক্তযুক্ত স্রাব বের হওয়া। এবং ৪৫/৫৫ বছর পর পিরিয়ড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও রক্তপাত হওয়া।
(৪) পিরিয়ড নিয়মিত না হয়ে যদি অনিয়মিতভাবে পিরিয়ড হয় বা যখন পিরিয়ড হওয়ার সময় ছিল হয়নি। এবং অসময়ে পিরিয়ড হচ্ছে বা বন্ধ হয়েছে যদি এমন লক্ষণ কয়েকবার হয়। তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
ক্যান্সার যদি জরায়ু মুখসহ আশেপাশের অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে,
(১) প্রস্রাব করতে অসুবিধা বা ব্যথা এবং কখনও কখনও প্রস্রাবের সাথে রক্তও যেতে পারে।[৪]
(২) ডায়রিয়া, মলত্যাগের সময় মলদ্বারে ব্যথা বা রক্তপাত।
(৩) খাওয়ার পরও ক্ষুধা লাগা এবং ওজন কমে যাওয়া।
(৪) ক্লান্তি বা অসুস্থ বোধ করা, পিঠে হালকা ব্যথা বা পায়ে ফোলাভাব, বেশিরভাগ সময় পেটে ব্যথা।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ
(১) অধিকাংশ সময় স্তনে একটি চাকা বা পিন্ড হাতে লাগে। অনেকটা টিউমারের মতো।[৫]
(২) স্তনের বোঁটায় ঘা বা ক্ষত। বোঁটার চারপাশে কালো অংশে চুলকানি।
(৩) স্তনের বোঁটা দিয়ে দুধের মত সাদা রস নিঃসৃত হতে থাকে। এবং স্তন লাল রং হয়ে গেছে এমন লক্ষণ।
(৪) স্তনে ব্যথা, স্তনের ত্বকের রঙের পরিবর্তন বা আকৃতির অস্বাভাবিকতা এবং স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিকতা।
(৫) ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বগলের উপসর্গ, ঘাড়ে চাকা এবং পিঠে ব্যথাও স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ।
উপরের লক্ষণগুলো যদি কোনো নারীর মধ্যে প্রকাশ পায় দেরি না করে। লজ্জা না পেয়ে, দ্রুত অভিজ্ঞ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং গাইনী ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে স্তন পরীক্ষা এবং জরায়ু মুখ স্ক্রিনিং পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। সময় মতো যদি চিকিৎসা নিতে পারেন এই দুই ধরনের ক্যান্সার থেকে সেরে আসা সম্ভব।
লিখেছেন : নাসিম আহমাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন